আবার আমি এসেছি আপনাদের সঙ্গে কিছু
গল্প করবো বলে। গল্প করবো মানে কিন্তু আপনারাও কিছু বলবেন। শুধু আমি একা বললে কি
গল্প করা হয়? আপনারা কমেন্ট/মন্তব্য করে আপনাদের মতামত জানাবেন। আমি ভুল কিছু লিখে
থাকলে অবশ্যই শুধরে দেবেন। আমাদের আজকের বিষয় সেই একই , সম্পর্ক।
যেকোনো সম্পর্ক শুরু করতে বিশ্বাস একটা
বড়ো ভূমিকা গ্রহণ করে। সম্পর্ক যত এগোয়, এই বিশ্বাসও তত অটুট হয়। একে অন্যের ওপর
ভরসা এবং নির্ভর করতে শুরু করে। এই যে আমরা বলি যে ছোটরা কত সরল, ওদের মনে কোন পাপ
নেই, ওদের মাথার ওপর সেরকম কোন বাড়তি চাপও নেই। ওরা এতটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারে
তার কারণ ওরা জানে ওদের মা-বাবা ওদের জীবনে কোন কিছুর অভাব ঘটতে দেবেনা।ওরা জানে ঠিক
সময়ে খাবারটা মুখের কাছে ধরার জন্য মা আছে, ওদের জীবনধারণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন
তা এনে দেওয়ার জন্য বাবা আছে। কিভাবে এগুলোর সংস্থান হয় তা নিয়ে ছোটোদের কখনও
চিন্তা করতে হয়না, তাই ওরা এত সুন্দর একটা ছোটবেলা পেয়ে থাকে। এর জন্য ওরা
বাবা-মার ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। অথচ এটাই
সম্পর্কের মাধুর্য তৈরি করে। এই নির্ভরশীলতা আবার অন্য রূপে ফিরে আসে যখন এই ছোটরা
বড় হয় আর বাবা-মা বৃদ্ধ হন। তখন তাঁদের বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র অবলম্বন তাঁদের
সন্তানরা। যেকোনো সম্পর্কের এই নির্ভরশীলতার ভার বহন করাটা একটা দায়িত্বের মধ্যে
পড়ে। আর দায়িত্ব যথার্থভাবে পালন করতে পারলেই সম্পর্ক সুন্দর ও দৃঢ় হয়।
আমি আগেও বলেছি যে এই সম্পর্ক শুধু দুটি মানুষের মধ্যে নয়, পশু-পাখিদের সঙ্গেও গড়ে ওঠে।আমি একটা কুকুরকে দেখেছি তার মনিবের জন্য মনখারাপ করে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিতে। আবার অনেকগুলো কুকুরকে দেখেছি তার মনিবের অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় হলে পথ চেয়ে বসে থাকতে। কি অবাক লাগছে তো, ভাবছেন এরকম তো আমাদের মা আমাদের জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে। তাইনা? ঠিক তাই। আর পশুদের মধ্যেও সেই বোধটা আছে। আরও একটা উদাহরণ দিই, একটা বিড়ালকে দেখেছি ,সে রোজ নির্দিষ্ট সময়ে মনিবের সঙ্গে হাঁটতে যায়। তো কোন দিনে যদি তার মনিবের কোন কারণে দেরি হয়ে যায়, সে নির্দিষ্ট সময়ে মনিবকে ডাকতে আসে, মিয়াও ছাড়া কিছু বলে না ওরা। তবু সেই ডাক শুনে মনে হয় বলছে, ‘চলো, ঘুরতে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে যে’। ওরা কথা বলে নিজেদের মনের ভাব আমাদের বোঝাতে পারেনা ঠিকই, কিন্তু হাবেভাবে পুরো মানুষের মতই।
কি মধুর এই ভালোবাসার বন্ধন। এটা
যেন প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয় যে তুমি একা নও, তোমাকে কোথাও যেতে দেবনা, আমাকে
ছেড়ে তুমি কোথায় যাবে, তোমার কিচ্ছু হবেনা আমি আছি তো—এই ধরনের কিছু অনুভূতি। আমরা
অনেকে ভাবি ,ধুর এতো সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে কি হবে! যোগাযোগ রাখবো না এত সবার সঙ্গে,
এত দায়দায়িত্ব পালন করতে হবেনা, একা থাকাই ভালো। কিন্তু একা থেকেই দেখুন , একা
থাকাটা যেন আপনাকে গিলে খেতে আসবে। আমি মনে করি ,একাকীত্ব একটা অভিশাপ। সেই
অভিশাপকে নিজের জীবনে যেচে ডেকে আনা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। তাই সবাই মিলে
একসঙ্গে হইহই করে জীবন কাটান। অবশ্য এখন আগেকার মতো একান্নবর্তী পরিবার খুব কমই
আছে। তবু যে কজন আছেন পরিবারে,তারা মিলেমিশে আনন্দে কাটান। আগের তুলনায় ছোট
পরিবারকে আরও ছোট করে দেবেন না। হয়তো মনোমালিন্য হবে, সে তো সব সংসারেই হয়, কিন্তু
আবার ঠিকও হয়ে যাবে। তার জন্য পরিবারগুলোকে টুকরো টুকরো করে দেবেন না। ভেবে দেখুন,
এমনিতেই জনসংখ্যা বাড়ছে। আর যত ছোটই পরিবার হোক, বাস করবার জায়গা চায়। অনেক
মানুষের ঘরবাড়ি নেই। কোন রকমে ফুটপাথে ,নাহলে বস্তির ঝুপড়িতে দিন কাটায়। অল্প
জায়গায় ঘিঞ্জি পরিবেশে অনেকে বসবাস করেন। অথচ আপনারা সখ করে বড় বাড়িতে মাত্র ২,৩ জন
থাকেন।এটা বিলাসিতা নয় কি? তাই ঝগড়াঝাটি করে সেটাকে আরও বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না নিয়ে যাওয়াই ভালো।
এসব ঘটনার ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।
তবে সংখ্যায় খুব কম হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আপনাদের মূল্যবান মতামত আমাকে
লেখালেখির কাজে আরও উৎসাহিত করবে। তাই সেই প্রাপ্তি থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না।
লেখা ভালো লাগলে আমাকে অবশ্যই ফলো করবেন, আর লেখাটি শেয়ার করতে ভুলবেন না। ভালো
থাকুন, সুস্থ থাকুন।