ভাবতে ভালোবাসি
Monday, February 19, 2024
টোকা
Thursday, January 13, 2022
ভালো নাকি মন্দ
আমার মতে আমি ভীষণ ভালো। আমি নিজেকে ভালো হিসাবে তৈরি করার চেষ্টায়
প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকি। কোন বিশেষ ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ঠিক যেমনটা চান, আমি ঠিক তেমন
ভাবেই নিজেকে গড়ে তুলতে সদা সচেষ্ট। কিন্তু তবু কেউ কেউ আমাকে নিয়ে খারাপ কথা বলে,
আমার গুণাগুণ বিচার করে আমাকে তুলোধোনা করে ছাড়ে। তবে কি আমি ভালো নই!
এই চিন্তা কমবেশি সবার মনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই সবার তালিকায় সবার প্রথম বোধহয় আমারই স্থান। আমরা
সবাই দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার মতো ভালো হওয়ার জন্য দৌড় লাগাই, আর সেটা বোধহয় ভালোর
প্রকৃত অর্থ না জেনেই। ভালোর সংজ্ঞা দেবনা, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ধারণা বলবো। আপনারাও
নিজস্ব মতামত জানালে খুশি হব। সবার ধারণা নিশ্চয় আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক।
‘ভালো’ কথাটা নিঃসন্দেহে আপেক্ষিক।কলেজে থার্ড ইয়ারে আইনস্টাইনের
আপেক্ষিকতাবাদ পড়তে গিয়েও বুঝিনি যে বিশ্ব জগতের সব কিছুই এইভাবে আপেক্ষিক হবে। পাঠক
বন্ধুরা হয়তো রেগে গিয়ে বলবেন, ‘এই তো দিদি, এই তোমার এক দোষ। নিজে ফিজিক্স নিয়ে পড়েছ
বলে কথায় কথায় ফিজিক্স এর বুলি আওড়াও। হচ্ছিলো কথা ভালো-মন্দ নিয়ে, কোথা থেকে আইনস্টাইনের
আপেক্ষিকতাবাদ নিয়ে চলে এলে’। আরে তা না, যত কঠিন ভাবা যায় ততই কঠিন লাগে- সে জীবনই
হোক বা ফিজিক্স। যাই হোক, ভালোর মানে কিন্তু শুধু ব্যক্তি বিশেষেই নয়, সময়, স্থান
বিশেষেও বদলাতে থাকে। এই ধরুন এক ঘণ্টা আগেও মনে হচ্ছিলো ,এবারে বেশ ভালোভাবে পড়া হয়েছে,
পরীক্ষাটা মনে হচ্ছে ভালই হবে। আর অমনি একজন এসে প্রশ্ন করলো, ‘এটা পড়েছিস?’ বা ‘এটার
উত্তর কি হবে বলতো?’ আর আমার ভালোর সংজ্ঞা গেল বদলে।
তাই বলা যায়, যে বা যারা আমাদের মনে ভাবনা তোলে যে আমি ভালো
নই, বরং মন্দ হতে পারি ,তাদের কাছে ভালোর সংজ্ঞা অবশ্যই আলাদা। তাঁরা আমাকে নিশ্চয়
নিজেদের ধ্যানধারণা, নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করবেন। তাই তাঁর বা তাঁদের মতে
আমি যেমন , প্রকৃতপক্ষে আমি তেমনটা নাও হতে পারি। জীবনে ওঠা-নামা সবারই থাকে। কঠিন
সময়ে জীবনটা নিয়ে এগিয়ে চলা দুঃসাধ্য মনে হয়। আবার সেই কঠিন সময়টা পেড়িয়ে গেলেই পিছন
ফিরে নিজেকেই কত ভালো বা বড় মনে হয়, যে এত কঠিন সময়েও আমি মনের জোর হারাইনি, লড়াই করে
গেছি। ঠিক যেমন পথ চলতে কাদাজল ও থাকে, মসৃণ সুন্দর রাস্তাও থাকে। কাদাজল পেড়িয়ে যেতে
আমাদের বেগ পেতে হয় বইকি। সব পেড়িয়েই আমরা এগিয়ে যাই, তবু চলা থামাইনা। কিন্তু যে আমাকে
অনেক ওপর থেকে দেখছে, সে দেখছে আমি শুধুই পুতুলের মতো হাত পা নেড়ে চলছি, কালের নিয়মে
যেমনটা সবাই চলে। সে কিন্তু আমার পথের এত বাধা, লড়াই কিছুই দেখছে না। তাই আমার জীবনের
ভালো মন্দ বিচার করার কোন ক্ষমতাই তার নেই। আমার জীবনটা একটা সিনেমা হলে, সে নিতান্তই
দর্শক মাত্র। তাই নিজের ভালো মন্দ বিচারের ভার অন্যের হাতে তুলে দেবেন না দয়া করে।
কেবল মাত্র আপনিই জানেন আপনি কি, কেউ আপনাকে খুব কাছ থেকে দেখলে বা জানলে সে হয়তো বা
বুঝতে পারবে আপনার জীবনের গুরুত্ব। তাছাড়া আর কারোর পক্ষেই জানা সম্ভব না আপনি আসলে
কি বা কে?
সবার চোখে ভালো হওয়ার চেষ্টাতেই যদি জীবনটা অতিবাহিত করি, তাহলে
নিজের ভালোলাগা, নিজের সখ, নিজের স্বপ্নপূরণের চেষ্টা কবে করবো? আপনার জীবন তো আপনার
একারই,সে যতই তার সাথে আরও অনেকের জীবন জড়িয়ে থাকুক। কারোর ভালো বাবা বা মা, বা ভালো
সন্তান, ভালো ভাই বোন হওয়ার চেষ্টা নিশ্চয় করবো আমরা সবাই। কিন্তু সেটা নিজেকে অবহেলা
করে নয়, নিজেকে হারিয়ে ফেলে নয়। নিজেকে নিঃশেষ করে যন্ত্রের মতো জীবনযাপন –সে তো মৃত্যুর
নামান্তর। কিছু একটা লক্ষ্য করে আমরা যে যার জীবনে এগিয়ে চলি, এগিয়ে তো চলবই, কিন্তু
সেটা সুপারসনিক গতিতে নয়, জীবনটাকে উপভোগ করে।
আপনি ভালো হন বা মন্দ, যে আপনার ভালো মন্দ বিচারের ভার নিয়েছে,
তার জীবন নিজস্ব নিয়মেই চলবে। সুতরাং, কারোর কথায় নিজেকে খারাপও ভাবার কোন কারণ নেই,
নিজেকে বদলানোরও প্রয়োজন নেই। আপনি নিজের নিয়মেই চলুন, যেমন চন্দ্র, সূর্য, গ্রহরা
প্রতি নিয়ত নিজের নিয়মেই ঘুরে চলেছে। মানুষের জীবনে যেমন ঝড় ওঠে, সৌরজগতেও এরকম অনেক
ঝড় ওঠে। তাতে ওদের কারোরই গতির কোন পরিবর্তন হয়না। আমাদেরও ওরকম হতে হবে। বলবেন, ওরা
তো জড় পদার্থ। ওদের কি কোন অনুভূতি বোধ আছে নাকি? বেশ তো, অনেক বড় মানুষরাও অনেক সমালোচিত
হন, অতীত থেকে বর্তমান তার উদাহরণ প্রচুর। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এরকম অনেক মানুষকে অনেক
লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়েছিল তাঁদের আবিষ্কারের জন্য। তাতে তাঁদের ধারণার কিছুমাত্র বদল হয়নি।
যা ঠিক তা আজীবন ঠিকই থাকে, যা ভালো তা ভালোই। কেউ তার বিচার করে খারাপ প্রমাণ করতে
চাইলেও তা ভালোই থাকবে আজীবন। তাই লোকের কথায় কি আর আসে যায়। তাইনা?
পুনশ্চঃ কারোর মনে হতেই পারে, এত বড় বড় কথা লিখছি যখন, নিজের
জীবনে নিশ্চয় সেগুলো মেনে চলি। তাহলে বলি বন্ধুরা, আমার লেখার পাঠক যেমন আপনারা, আমি
নিজেও আমার লেখার পাঠক। আমি নিজেও আমার লেখা থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করি। যা লিখি,
তা সত্য বলে বিশ্বাস করি বলেই লিখি। আমার যা কাজে লাগে, আমার পাঠকদেরও তা কাজে লাগতে
পারে ভেবে লিখি। আশা করি, বোঝাতে পারলাম। অনেকদিন পর লিখলাম, কেমন লাগলো জানাবেন অবশ্যই।
ভালো থাকবেন। নমস্কার।
Sunday, December 5, 2021
যখন হৃদয় মেলি
আজ হঠাৎ আমার প্রিয় রবি ঠাকুরের একটা গান মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত
অনুভূতির সৃষ্টি করলো।
‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি তোমায় দেখতে আমি
পাইনি।
বাহির-পানে চোখ মেলেছি, আমার হৃদয় পানে চাইনি’
রবি ঠাকুর গানটা কি ভেবে লিখেছিলেন জানিনা, তবে যেকোনো গান
,বিশেষ করে রবীন্দ্র সঙ্গীত তো এক এক জনের কাছে এক এক ভাবে ধরা দেয়। সবাই নিজের নিজের
মনের প্রতিফলন পায় ওনার গানে। তাই বোধহয় গানগুলোর এত জনপ্রিয়তা। হতেই পারে মনের মধ্যে
ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করে এই গান লেখা, আবার কারোর কারোর এটাও মনে হতে পারে আমাদের
কোন প্রিয় মানুষের অস্তিত্ব মনের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার সূত্র আছে এই গানে, যেমন- আমাদের
বাবা মা বা জীবনসঙ্গী অথবা প্রিয় বন্ধু। কিন্তু আমার হঠাৎ গানটা শুনে মনে হল যেন আনন্দ,
খুশি এসব আমাদের মনের ভেতর লুকনো আছে। আর আমরা সেটা বেশিরভাগ সময় ভুলে যাই। বাইরে হাজার
হাজার সুখের হাতছানি যেন আমাদের প্রকৃত আনন্দের কথাই ভুলিয়ে দেয়। বাইরের সুখের গলিতে
বারবার ঢুঁ মেরে যখন সুখ না পেয়ে ফিরে আসি, হঠাৎ একদিন সামান্য খুশিতেও মন খুশি হয়ে
ওঠে। অর্থাৎ, সুখের পরিমাণটা বড় ব্যাপার নয়, সুখ ছোট হোক বা বড়, উপভোগ করার মতো মনের
দরজা খোলা থাকলেই মন আনন্দিত হয়ে ওঠে। সেই মনের দরজা আজকালকার গতিময়তার যুগে বন্ধ যেন
না হয়ে যায়। তাহলে আখেড়ে ক্ষতি আমাদেরই। মনের
ভেতর গুপ্ত আনন্দের খনি থেকে আনন্দ পেতে পারবোনা আমরা। আনন্দটা বাইরের হলে বড় বেশি
লোক দেখানো আনন্দ হয়ে যায়। আনন্দটা ভেতরের হলে তার রেশ বহুদিন থেকে যায়।
এই প্রসঙ্গে আরও একটা ব্যাপার মাথায় এলো। সবার মনের মধ্যেই একটা
মানুষ আছে যাকে সে নিজে ভালবেসে একটু একটু করে তৈরি করেছে। সে নিজে যা কিছু চায়, ভেতরের
সেই মানুষটা ঠিক তাই তাই করে। ঠিক যেমনটা হতে চাই সে, যেমন ভাবে বাঁচতে চায়, ভেতরের
সেই মানুষটা ঠিক সেইরকম ভাবেই বাঁচে। কিন্তু এই ভেতরের মানুষটাকে শুধু সেই চেনে, বাইরের
কেও চেনে না। চিনলেও সেটা পুরোপুরি নয়। কারণ কেউই বোধহয় নিজের মনের মধ্যের নিজেকে বাইরে
প্রকাশ করতে পারেনা। বাইরে তার অন্য রূপ। বাইরের রূপ তার পছন্দের নয়, সেটা সে সবার
জন্য বানিয়েছে, আর ভেতরের রূপটা সে তার নিজের জন্য বানিয়েছে, সেটা একদম তার মনের মতো।
তাই আমরা যে মানুষকে যেমনই দেখি না কেন, সে আসলে সেরকম নয়, তার চেয়ে অনেকখানি আলাদা,
অনেকখানি সুন্দর।
আমি তো আমার মতামত জানালাম, এবার তোমাদের/আপনাদের কথাও শুনতে
চাই। ভালবেসে সবাই বোলো / বলুন নিজের নিজের মন্তব্য। ভালো থাকবেন সকলে।
Sunday, July 4, 2021
জীবনচর্চা
জীববিজ্ঞান বলে, প্রতিটা মানুষ নাকি প্রতি ৭বছর অন্তর নতুন মানুষে পরিণত হয়। কথাটা যেদিন প্রথম জানতে পারি, সেদিন ৭বছর আগেকার ‘আমি’র সঙ্গে আজকের ‘আমি’র তুলনা করে মতবাদটাকে ভীষণভাবে সমর্থন করেছিলাম। সত্যিই ৭বছর আগে আমি অনেক অপরিণত মস্তিষ্কের ধারক ছিলাম। অবশ্য বর্তমানেও যে আমি ভীষণ পরিণত মস্তিষ্কের ধারক, তা নিশ্চয় বলবোনা। তবে এটা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি যে, এই মুহূর্তে যা ভাবছি তা ১ঘণ্টা পরেও বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ, আমার মতে, হয়তো আরও অনেকেরই এরকম মত হতে পারে যে, শুধু ৭বছরে কেন, প্রতি মুহূর্তে আমরা সবাই বদলে যাচ্ছি, আর এক-একটা নতুন মানুষে পরিণত হচ্ছি। এর একটাই কারণ হতে পারে অভিজ্ঞতা। জীবনপথে প্রতিটা পদক্ষেপ আমাদের নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। আমাদের হাজার পড়াশোনার ভিড়ে একবার আমাদের একটা শব্দের সঙ্গে পরিচয় করানো হয়, ‘স্কিমা’। এর অর্থটা খুব মনে ধরেছিল, তাই মনে থেকে গেছে। আমরা প্রতিদিন প্রতিক্ষণে যা কিছু অভিজ্ঞতালাভ করি, তা আমাদের সুবিধা মতো পরিবর্তিত-পরিমার্জিত করে আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার নামই হল স্কিমা। এই স্কিমা দিয়েই আমরা প্রতি মুহূর্তে বড় হয়ে উঠছি, উন্নত মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠছি, আগের চেয়ে বেশি পরিণত হয়ে উঠছি। অন্তত হয়ে না উঠলেও, হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।
এর ফল কি হয়? দেখা যায়, ছোট থেকে নানান অন্ধ সংস্কারের মধ্যে থেকে বড় হওয়া ছেলেটা বা মেয়েটা কখনও বলে উঠে ‘এটা কেন করবোনা ? ওটা কেন মানবো?’ ।ছোট থেকে ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষটার মনে কখনও প্রশ্ন জেগে ওঠে, ‘ঈশ্বর আসলে কি? কোথায় থাকেন? মানুষের মধ্যে, সর্বজীবের মধ্যে? নাকি তাঁর আলাদা কোন অস্তিত্ব আছে? থাকলে তা মাঝে মাঝে চোখে পড়েনা কেন?’ । একটা বাচ্ছা ছেলেকে্ যদি প্রশ্ন করা হয়, ‘এই পৃথিবীতে কে সবচেয়ে বেশি সুন্দর?’ , সে হয়তো উত্তর দেবে ‘আমার মা’। তারপর বিভিন্ন বয়সে এই প্রশ্নের উত্তর কখনও তাঁর স্ত্রী, কখনও তাঁর সন্তান, বৃদ্ধ বয়সে হয়তো তাঁর নাতি বা নাতনি, আবার মৃত্যু কালে হাসপাতালে তাঁকে সেবারতা নার্সটিও হতে পারে। এইভাবে সারাজীবন ধরেই মানুষের মত বদল, মন বদল চলতে থাকে। কেউ জানেনা কখন কি হবে। আজ যার কষ্ট বুঝতে না পেরে শুধুই সহানুভূতি জানাচ্ছি, কাল একই কষ্টের অভিজ্ঞতা আমারও হতে পারে। বড় অদ্ভুত এই জীবনের প্রতিটা ক্ষণ। কত কিছুই না শিখিয়ে দিয়ে যায় আমাদের। সারাজীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান নিয়ে কেউ কেউ পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারে। এই পরিপূর্ণ মানুষের সংজ্ঞাটাও এক একজনের কাছে এক একরকম।
যে যার দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিচার করে।
আবার এমনও হয় একটা মানুষকে আমরা যা চিনি, যা ভাবি ,সে আদতেও তেমনটা নয়। একটা মানুষ শুধু নয়, সব ব্যক্তি,বস্তু,ঘটনা সব কিছুরই আলাদা আলাদা পরিচয় , এক একজনের কাছে এক একরকম পরিচয়। এই যেমন একটা সিনেমা দেখে ভিন্ন ভিন্ন
দর্শক ভিন্ন ভিন্নরকম প্রতিক্রিয়া করে। আবার আমার এই লেখাটা এক একজন পাঠকের মনে এক একরকম ভাবে
ধরা দেবে। মানুষের ক্ষেত্রেও তাই। আমি খোলা ছাদে গিয়ে দাঁড়ালে যেদিকেই তাকাবো, সেদিকে আলাদা আলাদা দর্শনানুভূতি হবে, অপর পক্ষে সেই আলাদা আলাদা দৃশ্য গুলোও আমাকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে। তাদের সবারই আমাকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ বলেই মনে হবে। তাই একথা বলাই যায় যে, তুমি যেমন, ঠিক তেমনভাবেই তোমাকে কেও চিনবে না। হয়তো তুমি নিজেও না। পিছন ফিরে ১ঘণ্টা আগের ‘তুমি’কে তাকিয়ে দেখো, অনেক আলাদা মনে হবে। কি অদ্ভুত ব্যাপার! আমার নাম একটাই, অথচ সবার মনে আমার আলাদা আলাদা পরিচয়, নাম হিসেবে নয়, মানুষ হিসাবে । সবাই আমাকে নিজের নিজের চিন্তাভাবনা
দিয়ে বিচার করে। আমি আসলে কি, তা প্রকৃতপক্ষে কেউই জানতে বা বুঝতে
পারেনা। সে তুমি যতই সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করো।
অনেকসময় এমন হয়, পরিস্থিতি বিশেষে মানুষের মধ্যে অভাবনীয় পরিবর্তন
লক্ষ্য করা যায়। অন্যরা তো নয়ই, সে নিজেও পরে বুঝতে পারেনা তার এমন পরিবর্তন কিভাবে হল। পরিবর্তনটা ভালো হলে সে নিজেই সবার কাছে গর্ব করে
শোনায়, নিজেও পরবর্তীকালে সেই সময়কার ‘নিজে’কে দেখে অনুপ্রাণিতও হয়। কিন্তু পরিবর্তনটা
খারাপ হলে, সে সারাজীবন নিজের কাছে কৈফিয়ত দিতে থাকে ‘আমি কি সত্যিই ওরকম ছিলাম!
আমি কিভাবে ওরকম কাজ করেছিলাম?’ ইত্যাদি প্রশ্নের। আমরা সবাই নিজেকে কতটা চিনি? এই
প্রশ্নই সবাইকে ভাগ্যের কাঠগড়ায় এনে দাঁড় করায় একদিন, কিংবা হয়তো একাধিক দিন ।
জীবন বড়ই বিচিত্র। অন্যের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাই অনেকসময়, কিন্তু নিজের হাজার
হাজারটা প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে হয় রোজ। আর এই সওয়ালজবাবের হাত ধরেই জীবনপথে হেঁটে
চলে প্রতিটা ব্যক্তিত্ব।
আমি কিছু বললাম, এবার আমার পাঠকদের
কাছেও কিছু শুনতে চাই। সবাই সবার মতামত জানিও কমেন্ট বক্সে। আজকের মতো বিদায়।
সকলের শরীর ও মনের সুস্থতা কামনা করি।
টোকা
এটা কে রে যে আমার পেছনে সবসময় টোকা মেরে বলতে থাকে 'u can do it, u can do everything'. Who is this? এ কি আমাকে শান্তিতে বাঁচতেও দেবে...