সম্পর্ক ,যা দিয়ে এই গোটা পৃথিবীর
সমস্ত মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রিত হয়। কি ? কথাটা কি ভুল বললাম? নিজেরাই ভেবে দেখুন ,
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটা মানুষ বিভিন্ন সম্পর্কে বাঁধা পড়ে থাকে। সেই
সম্পর্কগুলো না থাকলে তার বেঁচে থাকার কোনো মানেই থাকতো না। আপনি বলবেন, এমন অনেক
মানুষ আছেন ,যাঁরা একা থাকেন, কোন সম্পর্কেই জড়িত নন। হ্যাঁ , এমন মানুষ নিঃসন্দেহে
অনেক আছেন। কিন্তু তাঁরা কোন মানুষের সাথে না হোক, কিছু বা কারোর সাথে সম্পর্কে
লিপ্ত। সম্পর্ক যে কেবলমাত্র মানুষের সাথেই হয়, তা তো নয়। তার ভাললাগার যেকোনো
কিছুর সঙ্গেই হতে পারে। যেমন ফোন, ল্যাপটপ, টিভি, বই, গাছ,পাখি এমনকি খাবারের
সঙ্গেও হতে পারে। আর জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে এরকম এক বা একাধিক সম্পর্কই সাহায্য
করে।
যখন একজন মানুষ বাধ্য হয়ে আত্মহননের
পথ বেছে নেন, তখন তার নিজেকে এই এত বড় পৃথিবীতে সম্পূর্ণ একা লাগে বলেই করেন। মানুষের
চিন্তাভাবনাগুলোও ভারি অদ্ভুত। অনেক সময়েই অনেকগুলো সম্পর্কে জড়িত থাকা সত্ত্বেও
মানুষ নিজেকে একা মনে করে, আর ভাবে সে যখন একা, তার কোন পিছুটান নেই, দায়দায়িত্ব
নেই, সে না থাকলে কারোর কিছু এসেও যাবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়না।এই ভুল চিন্তাভাবনা
মানুষকে দিয়ে কতরকম ভুল কাজ করিয়ে নেয় , তা তারা তখন বুঝতেও পারেনা। পরে ভেবে
আফসোস করে। আগে যা ঠিক ছিল , এখন তা ভুল মনে হয়। আগেকার ভুলগুলো জীবনকে চরম শিক্ষা
দিয়ে যায়।
অনেক সময় কাছে থাকলে সম্পর্কগুলোর
গুরুত্ব বোঝা যায়না। দূরে গেলেই টান পড়ে সম্পর্কের সুতোয়। তখন আগেকার আপাত অসহ্য
সম্পর্কগুলোই মূল্যবান হয়ে ওঠে। সম্পর্কের এই সুতোর দুপাশে থাকা মানুষ দুটো কাছে
থাকাকালীন সুতো আলগা থাকায় টানটা অনুভব করেন নি। দূরে গিয়ে সেটাই টানের অনুভুতি
জাগায়। বোঝা যায় সম্পর্কটা এখনো বেঁচে আছে। এর মধ্যে যদি কেউ একজন সুতোটা পুরোপুরি
ছেড়ে দেন, তাহলে দূরে গিয়েও আর টান অনুভূত হয়না।
অনেক সময় এমন হয় অনেক দিন কাছাকাছি
পাশাপাশি থেকেও একটা সম্পর্কের ভিত তৈরি হয়না। অথচ ঐ একই মানুষের সাথে অন্য কারোর
অল্প আলাপেই সখ্যতা তৈরি হয়। তাহলে দোষটা কার ? না, দোষটা কোন মানুষের নয়। দুটি
মানুষের মতের অমিল হলেই সম্পর্কের চেহারা বদলে যায়। সম্পর্কের মূলকথাই তো মন। মনের
মিল না হলে সম্পর্ক তৈরি হবে কিকরে? এই মানসিক অবস্থাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলায়।
আর তার ফলে মানুষও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। ফলে একসময় যে সম্পর্ক সুখের ও
অন্তরঙ্গতার ছিল ,তা পরবর্তী কালে নষ্ট হয়ে যায়। সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে যায়।
এতক্ষণ ধরে যে সমস্যাগুলির কথা বললাম, সেগুলোর কারণ হল ভালোবাসা, সহানুভূতি ,মূল্যবোধ ,দায়িত্ববোধের অভাব। এগুলো সকল মানুষকে সারাজীবন রপ্ত করা উচিৎ। শুধু বাবা মা বা গুরুজনদের দায়িত্ব নয় এগুলো শেখানো । তাঁরা তো শেখাবেনই। তাছাড়া সবাইকেই এগুলো নিজের মধ্যে আয়ত্ত করার চেষ্টা করতে হবে। সবই অভ্যাসের ব্যাপার। একবার সবাই মিলে চেষ্টা করে দেখিই না এই পৃথিবীটাকে সুন্দর বানাতে পারি কিনা আমাদের চিন্তা ভাবনা আর সুন্দর কিছু সম্পর্ক দিয়ে।
পুনশ্চঃ এগুলি ছাড়াও অনেক সমস্যা সম্পর্কের মধ্যে দেখা যায়। যেগুলোর হয়তো কোন সমাধান নেই।সেই আলোচনা পরে হবে।
খুব ভালো লেগেছে
ReplyDeletethank you
DeleteKhub bhalo 😄😄
ReplyDeletethank you
DeleteSotti i khub sundor r govir chinta vabna r porichoy paoa jai lekhar modhye....onek dur jabe.
ReplyDeletethank you
Deleteভাল,তবে সম্পর্কর অবহেলা হয়ত অনেক সময় ভীষণ বেথা দেয়
ReplyDeleteThanks..ekdom thik kotha
Delete