শিরোনাম 'আমার ছেলেবেলা' বা 'আমার মেয়েবেলা' দিতে গিয়েও দিলাম না। কারণ ছোটবেলায় কি ভাবতাম জানিনা, এখন আমি মনে করি ছেলে মেয়ে কে আলাদা ভাবার কোন কারণ নেই। উভয়েই সব কাজই করতে পারে যদি তার আত্মবিশ্বাস থাকে। তো যাই হোক তার থেকে আমি শিশু ছিলাম ,এটা ভাবতে বেশি ভাললাগে। তাই এই শিরোনাম।
কেন জানিনা মানুষ যখন যে অবস্থায় থাকে সেটাকে সে কেন উপভোগ করতে পারেনা। যখন ছোট ছিলাম বড়ো হওয়ার ইচ্ছা ছিল প্রবল। ভাবতাম বড়োরা সব কিছু নিজের ইচ্ছা মতো করতে পারে, আমি কবে বড়ো হবো? এই ভাবনাটা যে কত বড় ভুল ছিল তা আজ আমি হাড়ে হাড়ে টের পাই। আর ততই ছোটবেলার দিনগুলো মনে পড়ে যায়। মনে হয় কোন গল্প পড়ছি। নিজেরই যে ছোটবেলা সেটা মনেই হয়না। এত সুন্দর সেসব স্মৃতি। প্রথম থেকে সব গুছিয়ে লেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি তো আর রবিঠাকুর নই। তাই যখন যা মনে পরে জানাতে খুব ইচ্ছা করে সবাইকে।
আমরা একটা ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। যেটা নাকি ইংরেজ আমলের গুদাম ঘর ছিল। পুরনো দিনের কড়িকাঠের ঘর। ঘরগুলোও ছিল অন্ধকার। তো সেই ঘুপচি ঘরগুলোর আনাচে কানাচে আমার বদমাশ দিদি ভূত হয়ে লুকিয়ে থাকতো। উদ্দেশ্য আমাকে ভয় দেখানো । আচমকা ঘরের অন্ধকার কোণ থেকে যদি একটা বিশ্রি খনা গলার আওয়াজ বেড়িয়ে আসে, আর সেদিকে তাকিয়ে যদি দেখি ভূতের মতো একজন দাঁড়িয়ে আছে তাহলে কার না ভয় লাগে। তবে কি কদিন একই ধাঁচের ভয় দেখানোর ফলে আমার ভয় তাৎক্ষণিক ভাবে কেটে গেছিল। ছোটবেলায় এত কেন ভূতের ভয় পায় সবাই কে জানে। বড় হয়ে সেসব কথা মনে পরলেই হাসি পায়।
আমাদের রান্নাঘর,পায়খানা,বাথ্রুম এগুলোর ছিল টালির চালা। অবশ্য বাথ্রুম,পায়খানা গুলোকে চিড়িয়াখানা বললে বেশি মানায়। কারণ সেখানে ইয়া বড় সাইজের মাকড়সা, আরশোলা, কেঁচো ,কেন্নো এসব তো ছিলই, মাঝে মাঝে সাপ, ভাম এদেরও দর্শন পাওয়া যেত। কিভাবে যে অতো বড় ভাম ঢুকত জানিনা, তার পুরো শরীর দেখার সুযোগও পেতাম না। ভয়েতে শুধুই চোখ জোড়া ছাড়া আর কিছু দেখতে পেতাম না দরজার সামান্য ফাঁক দিয়ে। ঐ ফাঁকটুকু যে ভাম তাড়ানোর ভূমিকায় থাকতো তার জন্য ছিল। লাঠি দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা চলতো অনেকক্ষণ ধরে। তাতে তিনি ভয় পেতেন কিনা জানিনা। তবে একসময় চলে যেতেন, বোধহয় যে বা যারা ভয় দেখাচ্ছে তাদের দুরাবস্থা দেখেই।
আমাদের এই বাড়িটায় আমরা ছাড়াও আরও অনেকগুলো পরিবার ভাড়া থাকতো। অনেকটা কলোনির মতো। প্রতিটা পরিবারের মধ্যে হৃদ্যতা খুবই সুখকর ছিল। কখনও মনেই হত না আমরা সবাই একই পরিবারের নই। সব ছোটরা মিলে সকাল বিকেল খেলতাম। কুমির ডাঙ্গা ,লুকোচুরি, ছোঁয়াছুঁয়ি, রান্নাবাটি, ঘানি, আরও কত খেলা। অনেক সময় প্রচলিত ধারাবাহিক থেকে কিছু অংশ আমরা অভিনয় করতাম। এছাড়াও অনেক খেলা নিজেরাই তৈরি করতাম। সবচেয়ে মজা হত দোল খেলার সময়। এক এক জনকে ভূতের থেকেও বিশ্রী দেখতে লাগতো। বালতি বালতি রঙ ঢালা হত মাথা দিয়ে। তারপর রঙ ওঠাতে গিয়ে আমার মা তো গায়ের চামড়াটাই উঠিয়ে ফেলবার জোগাড় করতো। সেসব দিন সবদিক দিয়ে সত্যিই রঙিন ছিল। আর চাইলেও ফিরে পাওয়া যাবেনা সেসব । আর ফিরে পেয়েই বা কি হবে, যখন যা পাই আমরা কি তার মূল্য দিতে জানি! যা পাইনা তাই আমাদের কাছে মূল্যবান হয়ে থাকে। আমাদের শৈশবটাও নাহয় সেরকম মূল্যবান হয়েই থাক আমাদের স্মৃতিতে।
# একটি বিশেষ অনুরোধ সবার কাছে; আমার লেখা যদি ভালো লেগে থাকে তবে মন্তব্য/কমেন্ট লিখবেন। লেখাটি শেয়ার করবেন। এবং আমাকে অনুসরণ/ফলো করবেন। আপনাদের এই সমর্থন আমাকে আরও এই ধরনের কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে ।অনেক ধন্যবাদ সময় বার করে আমার লেখা পড়ার জন্য।

অনবদ্য।
ReplyDelete